মাংকিপক্স কি -- এটি লইয়া গুজব বা অকারণ সন্দেহ নাই

মাংকিপক্স নূতন কোনো ভাইরাস নহে। ১৯৫৮ সালে ডেনমার্কে একটি বানরের দেহে প্রথম এই রোগটি শনাক্ত হয় বলিয়া ইহাকে মাংকিপক্স বলা হয়। তবে বানর এই রোগের জন্য দায়ী নহে। মাংকি পক্সের দুইটি প্রধান ধরন রহিয়াছে, যাহাকে বলা হয়-ক্লেড ১ ও ক্লেড ২। ২০২২ সালেও একবার এমপক্স লইয়া 'জরুরি স্বাস্থ্য অবস্থা' ঘোষণা করিয়াছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ক্লেড ২ ধরনের তুলনামূলক মৃদু সংক্রমণে জারি করা হইয়াছিল এই জরুরি অবস্থা। তবে আশঙ্কার কথা হইল, এখন আরো অধিক প্রাণঘাতী ক্লেড ১-এর সংক্রমণ দেখা যাইতেছে। ইতিপূর্বে এই ধরনের সংক্রমিত ব্যক্তিদের মধ্যে মৃত্যুর হার ছিল ১০ শতাংশ পর্যন্ত। গবেষণায় দেখা গিয়াছে, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের দিকে এমপক্সের ভাইরাসের রূপ বদল হয়। এই রূপান্তরে তৈরি হওয়া নূতন ধরনটির নাম ক্লেড ১বি। তখন হইতেই ইহা দ্রুত ছড়াইতেছে। মনে রাখিতে হইবে, একটি ভাইরাস যত অধিক ছড়ায়, তত অধিক ইহার রূপবদল ঘটে।


মহামারি কী জিনিস, তাহা চার বৎসর পূর্বে সারা বিশ্ব দেখিয়াছে। করোনা মহামারির সমাপ্তি ঘটিলেও এখনো তাহার অভিঘাত কাটাইয়া উঠিতে পারে নাই বিশ্বের অনেক দেশ। ইহারই মধ্যে চোখ রাঙাইতেছে মাংকিপক্স নামের গুটিবসন্ত গোত্রের রোগ। আফ্রিকান অঞ্চলে মাংকিপক্স পরিস্থিতি জটিল হইয়া উঠিতেছে। বিশ্বের অনেক দেশেই ছড়াইয়া পড়িতেছে রোগটি। স্বাভাবিকভাবেই উপায়ান্তর না দেখিয়া গত ১৪ আগস্ট এই ভাইরাসের সতর্কতায় বিশ্বব্যাপী জরুরি অবস্থা জারি করিয়াছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটির মতে, এই রোগের সংক্রমণ ছড়াইয়া পড়া ঠেকাইতে এবং মানুষের জীবন বাঁচাইতে একটি সমন্বিত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য। দ্য আফ্রিকা সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের তথ্যমতে, এই বৎসরের জুলাই অবধি সাড়ে ১৪ হাজার মানুষ ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হইয়াছে। এই সময় পাঁচ শতাধিক আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হইয়াছে।


Comments

Popular posts from this blog

ফেসবুকে খারাপ আপত্তিকর কন্টেন বন্ধ করুন সহজেই

ব্রণ দূর করতে নিজের ‘থুতু’ ব্যবহার করেন • তামান্না ভাটিয়া..!

মানুষকে অভিশাপ দেওয়ার কঠিন পরিণতি